Blog
শিশুর হাঁটা শেখার সময়: প্রথম জুতা
শিশুর হাঁটা শেখার সময়: প্রথম জুতা কবে ও কেমন কিনবেন
শিশুর প্রথম পা ফেলা প্রতিটি বাবা-মায়ের জন্য একটি স্মরণীয় মুহূর্ত। কিন্তু এই আনন্দের সাথে সাথে একটি প্রশ্নও মাথায় আসে—শিশুর হাঁটা শেখার সময় প্রথম জুতা কবে থেকে পরানো উচিত, আর কেমন জুতাই বা কিনবেন? ভুল জুতা নির্বাচন শিশুর পায়ের স্বাভাবিক গঠন ও হাঁটার ভঙ্গিতে প্রভাব ফেলতে পারে, তাই এই বিষয়ে সঠিক তথ্য জানা জরুরি।
এই লেখায় আমরা জানব কখন শিশুর প্রথম জুতা দরকার, কী কী বৈশিষ্ট্য দেখে জুতা কিনবেন এবং কোন ভুলগুলো এড়িয়ে চলবেন।
শিশু কখন হাঁটা শুরু করে?
সাধারণত শিশুরা ৯ থেকে ১৮ মাস বয়সের মধ্যে হাঁটা শুরু করে, তবে এটি শিশুভেদে ভিন্ন হতে পারে।
- ৯-১২ মাস: আসবাবপত্র বা কারো হাত ধরে দাঁড়ানো ও পা ফেলার চেষ্টা
- ১২-১৫ মাস: স্বাধীনভাবে কয়েক পা হাঁটা শুরু
- ১৫-১৮ মাস: সাবলীলভাবে হাঁটা ও ছোট দৌড়ানোর চেষ্টা
শিশু নিজে থেকে দাঁড়াতে এবং হাঁটার চেষ্টা শুরু করলেই বোঝা যায় জুতার বিষয়ে ভাবার সময় এসেছে।
প্রথম জুতা আসলে কখন দরকার?
অনেকেই মনে করেন শিশু জন্মের পরপরই জুতা পরানো উচিত, কিন্তু বিশেষজ্ঞরা ভিন্ন মত দেন।
- হাঁটতে শেখার আগ পর্যন্ত জুতার প্রয়োজন নেই: খালি পায়ে হাঁটলে শিশুর পায়ের পেশি ও ভারসাম্য বোধ ভালোভাবে গড়ে ওঠে।
- ঘরের মধ্যে জুতা এড়িয়ে চলুন: ঘরের ভেতরে খালি পায়ে বা নরম মোজা পরে হাঁটাই ভালো।
- বাইরে বের হলেই জুতা দরকার: শিশু যখন স্বাধীনভাবে কয়েক পা হাঁটতে শুরু করে এবং বাইরে বের হওয়া শুরু হয়, তখনই প্রথম জুতা কেনার সঠিক সময়।
অর্থাৎ, শিশুর হাঁটা শেখার সময় প্রথম জুতা কেনার আদর্শ সময় হলো যখন শিশু বাইরের পরিবেশে নিয়মিত হাঁটাচলা শুরু করে, জন্মের পরপরই নয়।
প্রথম জুতা কেমন হওয়া উচিত?
সঠিক জুতা শিশুর পায়ের স্বাভাবিক বিকাশে সাহায্য করে। কেনার সময় নিচের বিষয়গুলো লক্ষ্য রাখুন:
নরম ও নমনীয় সোল
জুতার তলা যেন নরম ও বাঁকানো যায় এমন হয়, যাতে শিশুর পায়ের স্বাভাবিক নড়াচড়ায় বাধা না পড়ে।
পর্যাপ্ত জায়গা
জুতার সামনে আঙুলের জন্য অন্তত আধা ইঞ্চি বাড়তি জায়গা রাখুন, যেন পা বাড়ার সাথে সাথে অস্বস্তি না হয়।
শ্বাস-প্রশ্বাসযোগ্য কাপড়
সুতি বা চামড়ার মতো প্রাকৃতিক উপাদানে তৈরি জুতা বেছে নিন, যাতে পা ঘামে ভিজে না যায়।
হালকা ওজন
ভারী জুতা শিশুর হাঁটতে অসুবিধা করতে পারে। যত হালকা জুতা, তত সহজে শিশু হাঁটতে শিখবে।
সহজে পরানো-খোলা যায় এমন ডিজাইন
ভেলক্রো স্ট্র্যাপযুক্ত জুতা সবচেয়ে সুবিধাজনক, কারণ এতে পরানো ও খোলা সহজ এবং পায়ের মাপ অনুযায়ী সমন্বয় করা যায়।
জুতার সঠিক মাপ কীভাবে বুঝবেন?
- বিকেলের দিকে জুতা মাপুন, কারণ সারাদিন হাঁটাচলার পর পা সামান্য ফুলে থাকে
- দুই পায়ের মাপ আলাদাভাবে নিন, কারণ অনেক শিশুর দুই পায়ের মাপে সামান্য পার্থক্য থাকে
- প্রতি ২-৩ মাস অন্তর মাপ পরীক্ষা করুন, কারণ শিশুর পা দ্রুত বাড়ে
- জুতা পরিয়ে শিশুকে কয়েক পা হাঁটিয়ে দেখুন, অস্বস্তি হচ্ছে কি না বোঝার জন্য
যা এড়িয়ে চলবেন
- শক্ত সোলের জুতা: এটি পায়ের স্বাভাবিক গঠনে বাধা দেয়
- সেকেন্ড-হ্যান্ড জুতা: পুরনো জুতা আগের ব্যবহারকারীর পায়ের ছাঁচ অনুযায়ী গঠিত হয়ে থাকে, যা নতুন শিশুর জন্য উপযোগী নয়
- ছোট বা টাইট জুতা: এতে পায়ের আঙুল বেঁকে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে
- উঁচু হিল বা শক্ত সাপোর্টযুক্ত জুতা: ছোট শিশুর জন্য এসব একেবারেই অনুপযুক্ত
অতিরিক্ত টিপস
- বাড়িতে সবসময় খালি পায়ে বা নন-স্লিপ মোজা পরিয়ে রাখুন, এতে পায়ের পেশি মজবুত হয়
- জুতা কেনার সময় শিশুকে সাথে নিয়ে যান এবং সরাসরি পরিয়ে আরামদায়ক কি না যাচাই করুন
- একসাথে বেশি জুতা না কিনে প্রয়োজন অনুযায়ী কিনুন, কারণ পা দ্রুত বড় হয়
উপসংহার
শিশুর হাঁটা শেখার সময় প্রথম জুতা নির্বাচন একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত, যা শিশুর পায়ের স্বাস্থ্য ও হাঁটার স্বাভাবিক বিকাশে সরাসরি প্রভাব ফেলে। শিশু যখন বাইরে হাঁটাচলা শুরু করে তখনই নরম, হালকা ও সঠিক মাপের জুতা কেনা উচিত। ঘরের মধ্যে যতটা সম্ভব খালি পায়ে রাখাই শিশুর পায়ের স্বাভাবিক বিকাশের জন্য উপকারী।







